অস্ত্র তৈরির কারিগরদের আত্মসমর্পণ শনিবার

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২২ নভেম্বর ২০১৯, ৮:১১ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 57 বার
অস্ত্র তৈরির কারিগরদের আত্মসমর্পণ শনিবার অস্ত্র তৈরির কারিগরদের আত্মসমর্পণ শনিবার

প্রথমবারের মতো আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন কক্সবাজারের মহেশখালীর অস্ত্র তৈরির ডজন খানেক কারিগর। ইতিমধ্যে আত্মসমর্পণের জন্য সেফহোমে আসা অপরাধীদের মধ্যে অস্ত্রের শীর্ষ কারিগর জাফর আলমসহ আরও ১২ জন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কারিগর রয়েছে। শনিবার (২৩ নভেম্বর) এ আত্মমর্পন করবেন তারা।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি, পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী উপস্থিত থাকবেন। এর আগে সকাল ৯ টার ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছে তারা সার্কিট হাউসে অবস্থান নিয়ে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের সামগ্রিক বিষয়াবলী জ্ঞাত হবেন। এরপর স্পীডবোটযোগে কালারমারছরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন।

এদিকে জলদস্যু, পাহাড়ি সন্ত্রাসী, চিহ্নিত ডাকাত অপরাধ জীবন ছেড়ে রাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করলেও অস্ত্র তৈরির কারিগর আত্মসমর্পণ করার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এবারই প্রথম।

সেইফহোমে আসা এক অস্ত্র কারিগর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মহেশখালীতে তৈরি হওয়া অবৈধ অস্ত্রের গায়ে ‘Made in Zafor’ লেখা থাকলেও এর দাম অন্য কারিগরদের তৈরি অস্ত্রের চেয়ে দাম বেশি নেওয়া হতো। তারমতে, ‘জাফর’র কারখানায় তৈরি অস্ত্র সারাদেশে সরবরাহ করা হতো।

সূত্রমতে, শীর্ষ অস্ত্রের কারিগর ও জলদস্যুরা দেড় শতাধিক অবৈধ অস্ত্র, প্রায় ২ হাজার গোলাবারুদ, ধারালো ভয়ংকর অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ আত্মসমর্পণ করবেন। মহেশখালীর কালারমারছরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কক্সবাজার জেলা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় সকালে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান চলবে। এতে অস্ত্র তৈরির শীর্ষ কারিগরসহ জলদস্যু, দাগী অপরাধী ও বহু মামলার পলাতক আসামিরা আত্মসমর্পণ করবেন।

আত্মসমর্পণে একমাত্র মধ্যস্থতাকারী বেসরকারি টিভি চ্যানেল আনন্দ টিভির বিশেষ প্রতিনিধি আকরাম হোসাইন জানান, শীর্ষ অস্ত্রের কারিগরদের কারখানা পর্যন্ত পৌঁছাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশের সহযোগিতা ও উৎসাহে এ দুঃসাহসিক কাজে সফল হতে পেরে নিজে তৃপ্তি অনুভব করছি। অশান্ত উপকূলকে শান্ত করতে, এলাকার মানুষকে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করতে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

কক্সবাজার জেলার সবচেয়ে বেশি অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসাবে পরিচিত এই মহেশখালী উপজেলার কালামারছরা ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা। খুন, রাহাজানি, দস্যুতা, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ সব জঘন্য অপরাধকর্ম সংগঠিত হওয়া কালারমারছরার জন্য একেবারে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। মহেশখালীর চিহ্নিত অস্ত্রের কারিগর ও কুখ্যাত বেশ ক’টি জলদস্যু বাহিনীর সর্দার, অস্ত্রের শীর্ষ কারিগর ও বাহিনীর সদস্যরা এদিন সদলবলে আত্মসমর্পণ করছেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে, কুখ্যাত খউস্বর বর গ্রুপ, কালারবর গ্রুপ, আইয়ুব বাহিনীসহ ৮ টি পৃথক জলদস্যু বাহিনীর প্রধান, সদস্যরা, অস্ত্রের কারিগরদের সর্দার, দাগি পলাতক আসামিরা আত্মসমর্পণ করতে মধ্যস্থতাকারীর নিয়ন্ত্রণে সেফহোমে চলে এসেছে। এসব কুখ্যাত বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে অপরাধের স্বর্গরাজ্য হিসাবে পরিচিত কালারমারছরাসহ উপকূলীয় এলাকায় সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন এসব বিষয়ে সাহসের সাথে এখন মুখ খুলতে চেষ্টা করছেন।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, স্থানীয় অন্যান্য সংসদ সদস্যগণ, র‌্যাবের কর্মকর্তা, বিজিবি’র রিজিওন কমান্ডার, কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি, মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরীফ বাদশা, কালারমারছরার ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে অনুরূপভাবে ৪৩ জন সশস্ত্র জলদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছিলো। সেখানে ৪৩ জনের মধ্যে আকরাম হোসাইনের একক মধ্যস্থতায় ৩৭ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আত্মসমর্পণকারীরা মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়ার সমুদ্র উপকূলের ভয়ংকর জলদস্যুরা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। আকরাম হোসাইনের মধ্যস্থতায় চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ১০২ জন ইয়াবাকারবারী টেকনাফে আত্মসমর্পণ করেছিলো। গত বছরের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে আত্মসমর্পণ করা ৪৩ জন জলদস্যু সরকারের কাছ থেকে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে অনুদান পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এখন ক্ষুদ্র ব্যবসা বাণিজ্য করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *