কুষ্টিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক, ভোগান্তির শিকার হচ্ছে জনগন

অথর
রাহিলা খাতুন  স্টাফ রিপোর্টার, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২:৪৭ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 238 বার
কুষ্টিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক, ভোগান্তির শিকার হচ্ছে জনগন কুষ্টিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক, ভোগান্তির শিকার হচ্ছে জনগন

অনিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে কুষ্টিয়াবাসিকে। প্রতিদিন লাগামহীনভাবে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক এবং রিক্সার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ জনগণ এবং পথচারিদের সড়কে চলাচল একেবারেই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজার থেকে মজমপুর হয়ে চৌড়হাস পর্যন্ত শতশত ইজিবাইক এবং অটোরিক্সা যেভাবে দখল করে থাকে তাতে সংক্ষিপ্ত সময়ে রাস্তা বা পথটি অতিক্রম করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কোন প্রকার তদারকি না থাকায় ব্যাটারি চালিত এসব ইজিবাইক এবং রিক্সার সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে শহরের অল্প পরিসরের রাস্তার উভয় পাশে যত্রতত্র মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনার কারণে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানজট নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, কুষ্টিয়ার চৌড়হাস থেকে মজমপুর হয়ে মঙ্গলবাড়ীয়া আলফামোড় পর্যন্ত রাস্তার দুইধারে যত্রতত্রভাবে ট্রাকসহ ইজিবাইকগুলো দাড়িয়ে থাকা এবং সড়কের দুইপাশে বালির স্তুপাকৃতভাবে জমে থাকার কারনে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকায় ভুট্টা বোঝাই ট্রাকের চাপায় ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও একই সময়ে জিলা স্কুলের সামনে অনিয়ন্ত্রিভাবে ইজিবাইকের সাথে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। শেখ রিপন নামের এক পথচারী বলেন, কুষ্টিয়া শহর বা মজমপুর থেকে চৌড়হাস এবং মজমপুর থেকে মঙ্গলবাড়ীয়া বাজার ওয়ানওয়ে সড়ক করা উচিৎ। তা না হলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে জেলা পরিষদ পার্ক না করে আগে সড়ক ঠিক করা উচিৎ। আর সবার আগে মজমপুরের রাস্তা ঠিক করা উচিৎ। আজাদ সানি নামের আরেক তরুণ নিরাপদ সড়কের দাবী করে করে বলেন, রাস্তা-ঘাটে চলাচল করতে আজকাল অনেকের জীবনই হুমকীর মুখে পড়ছে। এক্ষেত্রে আমিও পথ চলতে থমকে যাই, আতঙ্কে পথে পাঁ বাড়ায়। না জানি কখন কি হয়ে যায়। দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এস এম কাদেরী শাকিল বলেন, কুষ্টিয়ার সড়কের দুইধারে যত্রতত্রভাবে ট্রাকসহ ইজিবাইকগুলো দাড়িয়ে থাকা এবং সড়কের দুইপাশে বালির স্তুপ থাকার কারনে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল চালকেরাও এই বালুর স্তুপে আটকে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি কেএম জাহিদ বলেন, শুধু আইন করে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবেনা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য সরকার, গাড়ি চালক ও আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন হতে হবে সাধারণ মানুষকেও। সেই সাথে তিনি বলেন, ছোট্ট এই কুষ্টিয়া শহরের জন্য নিরাপদ সড়ক এখনো হয়ে ওঠেনি। যদিওবা কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক হওয়ার পরে এই জানযট কমবে। স্থানীয় সাধারণ জনগণ নিত্য নৈমত্তিক এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কুষ্টিয়া জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করছে। বিরাজমান এই সমস্যার সমাধান করা না গেলে কুষ্টিয়া শহরটি অচিরেই অনিয়ন্ত্রিত একটি শহরে পরিণত হয়ে উঠবে বলেও তারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে। কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ এসআই জয়নুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মন্ত্রনালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা মোতাবেক হাইওয়ে সড়কে তিন চাকা বিশিষ্ট সকল ধরনের গাড়ী চলাচলে নিষেধাঙ্গার বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, হাইওয়ে সড়কে তিন চাকা বিশিষ্ট সকল ধরনের গাড়ী চলাচলে এর আগেই নিষেধাঙ্গা ছিলো সেটা বাস্তবায়নে পূনরায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কুষ্টিয়া হাইওয়ে সড়ক এলাকা হচ্ছে ভেড়ামারা লালন শাহ সেতুর আগে থেকে কুষ্টিয়া ত্রিমোহনী পর্যন্ত এবং বটতৈল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পর্যন্ত। তবে ত্রিমোহনী থেকে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেট হয়ে বটতৈল এলাকা পর্যন্ত এবং কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুর রোডসহ কুষ্টিয়া শহরের অন্যান্য রাস্তায় তিন চাকা বিশিষ্ট গাড়ী চলাচল করতে পারবে।তিনি জানান অতিদ্রুতই এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে নামবে হাইওয়ে পুলিশ।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 3 =