নিউইয়র্কে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৯ অক্টোবর ২০১৯, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 41 বার
নিউইয়র্কে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন

নিউইয়র্ক: বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা আর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে নিউইয়র্কে উদযাপন হলো সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ পূজা শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে ৭ অক্টোবর সোমবার পর্যন্ত ৫ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে ব্যাপক ভক্ত সমাগমে মন্দির/হল প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠে। প্রতিমাকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসব। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী দেবীর অনুসারীরা মন্ডপে মন্ডপে গিয়ে তেল, সিঁদুর ও মিষ্টি মুখ করিয়ে প্রতিমাকে বিদায় জানান। বিদায় বেলা বিভিন্ন পূজা, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে এবং সিদুর খেলা সহ পুরো দুর্গোৎসবকে মাতিয়ে রাখেন পূজারীরা। প্রতিবারের মতো এবারো বিভিন্ন মন্দিরে সাজিয়ে তোলা হয় দেবী দুর্গাকে। নিউইয়র্কের সকল পূজা উৎসবেই দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটি নেতারা পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন।

সনাতন হিন্দু ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হলো “সিঁদুর খেলা”। এই সিঁদুর খেলার দেখা মেলে শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিনে।এই দিনে কেবল দুর্গা মাকে বিদায়ই জানানো হয় না, এর সঙ্গে থাকে নানা আয়োজনও । সিঁদুর খেলা এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।ঐদিন সকালে পূজার পর থেকে শুরু করে দেবীকে বিদায়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলে এই সিঁদুর খেলা। সিঁদুর খেলা হিন্দুদের রঙ খেলা থেকে কিছুটা ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।

শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন অর্থাৎ দশমীর দিনে সর্বশেষ যে রীতিটি পালিত হয়, এর নাম “দেবী বরণ”। বিবাহিত নারীরা সিঁদুর সহ অন্যান্য উপাচার সহকারে এই ‘দেবী বরন’ করে থাকেন। দুর্গা মাকে বিসর্জনের জন্য বিদায় দেওয়ার আগে তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর মাখানোর পর অবশিষ্ট সিঁদুর দিয়ে তাঁরা একে অপরকে রাঙিয়ে দেন। মূলত এটিকে দেখা হয় সোহাগের কিংবা বিবাহিত নারীদের সৌভাগ্য কামনাস্বরূপ হিসেবে। এটি মূলত খেলেন বিবাহিত নারীরা। তাঁরা একে অন্যকে লাল রঙের সিঁদুরে রাঙিয়ে দেন। মাথার এক প্রান্ত থেকে শুরু করে পুরো সিঁথি জুড়ে থাকে এই সিঁদুর। এই লাল রংকে ধরা হয় শক্তির প্রতিরূপ হিসেবে।

এই সিঁদুর খেলার অন্যতম গুরুত্ব হলো, বিবাহিত নারীরা তাঁদের সিঁদুরের স্থায়িত্ব অর্থাৎ তাঁদের স্বামীর দীর্ঘ জীবন কামনার উদ্দেশ্যেই তাঁরা এই সিঁদুর খেলা খেলে থাকেন। সেই ক্ষেত্রে তাঁরা একে অন্যের সিঁথি,হাতের শাঁখা ও মুখাবয়ব সিঁদুর দিয়ে রাঙিয়ে দেন ।বিবাহিত নারীরা একে অন্যের সৌভাগ্য কামনা করে এই সিঁদুর পরিয়ে থাকে।এই সিঁদুর খেলার মাধ্যমে বিজয়ার ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কিছুটা আনন্দের সঞ্চার হয় । বিবাহিত নারীরা ব্যতীত এটি অবিবাহিত মেয়েরাও খেলে থাকেন। অবিবাহিত নারীদের বিবাহিত নারীরা এ জন্যই সিঁদুর পরিয়ে দেন, যাতে দুর্গা মায়ের আশীর্বাদে তাদের ভবিষ্যৎ বিবাহিত জীবন সুখ সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে । এই দিনে প্রায় সব নারীই লাল রংয়ের শাড়ি পরে থাকেন।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *