বিশ্ব জুড়ে করোনা আতঙ্ক কবে মুক্তি পাব কেউ জানে না: ড. আব্দুস সাত্তার

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৪ মার্চ ২০২০, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 467 বার
বিশ্ব জুড়ে করোনা আতঙ্ক কবে মুক্তি পাব কেউ জানে না: ড. আব্দুস সাত্তার

ওয়াশিংটন ডি সি- যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো ওয়াশিংটনে দুই যুগের বেশী সময় পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। বিগত এই দিনে আফগানিস্তান যুদ্ধ ,ইরাক যুদ্ধ , ৯/১১ এবং ক্যাটরিনা সহ ভয়াবহ অনেক টর্নেডো হ্যারিকেন দেখেছি। কিন্তু এখনকার মতো এমন অদ্ভুত সময় এর আগে কখনো দেখিনি। মানুষের মধ্যে ভয় আর আতঙ্ক।জরুরী দরকার ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। রাস্তাঘাট গুলো একেবারে ফাঁকা। প্রয়োজনে যদিও কেউ বাহির হয় দেখা যায় মাস্ক পরে আছে। আমিরিকা জুড়ে সংকট দেখা দিয়েছে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ,জিবানু ধ্বংসকারী ওয়াইপ, বাথরুম টিসু ও পানি সহ অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার কিনে মজুদ করছে মানুষ ফলে অনেক জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে।

বর্তমানে আমেরিকার অবস্থা অনেক ভয়াবহ। স্কুল, কলেজ ,সরকারি অফিস আদালত বড় বড় শপিংমল বিজনেস এবং সিটিং রেস্টুরেন্ট ও নাইট ক্লাবগুলো অনিদিস্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু হাস্পাতাল ,ব্যাংক, গ্যাস স্টেশন ও কিছু ফুড স্টোর খোলা আছে। তবে ফুড স্টোরে বসে খেতে পারবে না। শুধু ড্রাইভওয়ে দিয়ে পিক করতে হবে। যে কয়েটা গ্রসারি দোকান খোলা আছে সেখানে লাইনে দাঁড়াইতে হয় ৬ ফিট দুরে দুরে। এই ভাইরাসটি ৬ ফিট পর্যন্ত গ্রাস করতে পারে।

চীনের উহান প্রদেশ থেকে গত বছরের ডিসেম্বর করোনাভাইরাস শুরুর পর গোটা পৃথিবীকে তিন মাসের মধ্যে থমকে দিয়েছে। এখন গোটা প্রথিবিতে একটি মূর্তিমান আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। মানুষের মধ্যে শঙ্কা, উৎকণ্ঠা, ভয় সারাক্ষণ বিরাজ করছে। আমি কেন কেউ জীবনে এই ধরনের পরিস্থিতি দেখেছেন বলে মনে হয় না।কোন সার্কুলার নেই, নোটিস নেই, সব কিছুই স্থবির করে গোটা রাজত্ব দখল করে নিল করোনাভাইরাস। সমগ্র দুনিয়াকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলো দেখ তোমরা কত অসহায়। সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন আমরা তা ভুলে যাই অনেক সময়। তাই হয়ত সৃষ্টিকর্তার অভিযোগ আর আফসোস। তারপরও মানব জাতির অহংকার, কত দাপট, কত শক্তির অহামিকা।

ভাইরাসটি ঠেকাতে আমেরিকার বেশ কয়েকটি ষ্টেট লকডাউন করে দিয়েছে। জরুরী দরকার ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না। কোন জনসমাবেশ, পার্টি মিসিল ,মিটিং এমনকি খেলাদুলা ও করা যাবে না। শুধু তাইনয় ফ্যামিলি গেদারিং করার জন্য ও নিষেধ করা হয়েছে। কোথাও ১০ জনের বেশী জমায়েত হতে নিষেধ করা হয়েছে। দিনদিন ডবল হারে রোগীর সংখ্যা বারছে তাই হাসপাতালগুলো রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে রোগী সামাল দিতে। বেড সংকটের কারনে অনেক গুরুতর রোগীরাও হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে ফিরে আসছে। আবার অনেককে রাখা হচ্ছে মাটিতে পাতা অস্থায়ী বিছানায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে তাই আমেরিকার সাথে অন্যান্য দেশের বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছ। এমনি কানাডা ও মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে কয়েকদিনের দিনের মধ্যে পুরো আমেরিকা লকডাউন করে দিবে। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, এ ভাইরাস গরীব-ধনী, রাজা-প্রজা, রাজনীতিবিদ ও ডাক্তার বিচার করছে না। এইমাত্র নিউজে দেখলাম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ষ্টেট করিয়েছেন। এবং এই পর্যন্ত ৫ জন সেনেটর ভাইরাস ধরা পরেছে।

আমেরিকার ওয়াশিংটন স্টেটের একজনের মৃত্যু দিয়ে শুরু হয়ে বর্তমানে আনেরিকাতে মৃত্যুর সংখ্যা ৫20 জন। এই রিপোট লিখা পর্যন্ত পজেটিভ রোগী ৪২2০০। ডাক্তারদের ধারনা ১০০ হাজারে ছাড়িয়ে যাবে রোগীর সংখ্যা। স্বপ্নের আমেরিকায় থেকে ও মনে হচ্ছে কারাগারে আছি। এক ধরনের দমব্ধ করার মতো পরিবেশ। এখানে কেউ ভালো নেই। সুস্থ ও অসুস্থ সবাই আতংকের মধ্যে আছে। একে তো করোনাভাইরাস তারপর আজ পর্যন্ত ২ মিলিয়ন লোকের চাকুরী চলে গেছে আগামীতে আরও কত লোক বেকার হবে বিধাতাই জানে। শপিংমলে ছোট ছোট দোকান, রাস্তায় দোকান, উবার বিজনেস ও টেক্সি বিজনেস করা মানুষগুলো যাদের সংসার চলতো এই বিজনেস করে ্তাদের কি হবে? কিভাবে দিবে ঘর ভাড়া? কোথায় থেকে আসবে খাবারের টাকা? এই ভয়ে মানুষ প্রায় অর্ধেক মৃত্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস শ্বাসযন্ত্রের প্রক্রিয়ায়, অর্থাৎ ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে এটি। এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো—শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। এ ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ঘন ঘন অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া। কিংবা অন্তত ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল রয়েছে এমন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করার। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করানো হয়। আসলে ৯৯ শতাংশ ভাইরাসেরই কোনো চিকিৎসা নেই। করোনাভাইরাস হলে সেবা ও পরিচর্যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময় পার করতে হবে। সেই সঙ্গে লক্ষণভিত্তিক সেবা দিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির উচিত হবে কিছুদিন নিজেকে আড়াল করে রাখা, যেন অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে। এসব কারনে বুক মেলানো, হ্যান্ডসেক ও চুমো বন্ধ করা হয়েছে। আমার মনে হয় মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে মানুষ থেকে। করোনা এমন একটি ভাইরাস যার কাছে, মা,বাবা, ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী ,বয়ফ্রেন্ড ও গ্রালফ্রেন্ড কেউ আপন নয়। বাস্তব ঘটনা আমার এক বন্ধু বিদেশ থেকে এসে হোটেলে অবস্থান করছেন তাঁর মা ,স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে যেতে পারছেন না কারন নিয়ম হচ্ছে কেউ বিদেশ থেকে আসলে তাকে ১৪ দিন করেন্টাইনে থাকতে হবে।

সবাই মরণকে ভয় পায় কিন্ত এই ধরনের ভয় কক্ষনো দেখিনি। আজ পত্রিকায় দেখলাম ইতালি থেকে স্বামী এয়ারপোটে আসার খবর পেয়ে স্ত্রী বাসা থেকে পালিয়িয়েছে। যে প্রিয়তমা সবসময় বলতো আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না, জীবনে মরণে দুজন একসাথে থাকব কিন্তু করোনাভাইরাস এসে সেই ভালোবাসা সব কেড়ে নিয়েছে। ভয় ও ভীতির বেড়াজালে আবদ্ধ করোনা। গোটা বিশ্ব অদ্ভুত এক সময় পার করছে। এই অদ্ভুত পরিবেশ থেকে কিভাবে, কবে মুক্তি পাব কেউ জানে না একমাত্র বিধাতা ছাড়া। বিধাতার কাছে আবেদন মানবজাতি তোমার সাথে অনেক অন্যায় করেছে মানি তুমি ক্ষমা করার মালিক। ক্ষমা করে দাও আমাদেরকে বিধাতা। আমিন।

ড. আব্দুস সাত্তার
লেখক ও সাংবাদিক
ওয়াশিংটন ডি সি
০৩/২২/২০

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।