ফুলবাড়ীতে সারিন্দার সুর তুলে সংসার চলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুনীল রায়ের

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৯ আগস্ট ২০১৯, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 105 বার
ফুলবাড়ীতে সারিন্দার সুর তুলে সংসার চলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুনীল রায়ের ফুলবাড়ীতে সারিন্দার সুর তুলে সংসার চলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুনীল রায়ের

বিশ বছর ধরে সারিন্দার সুরে কোকিল কন্ঠে গান পরিবেশন করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুণীল চন্দ্র রায় (৩৭)। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিষামত শিমুলবাড়ী গ্রামে মৃত শৈলান চন্দ্র রায়ের ছেলে।

বাবার সম্পদ বলতে মাত্র ৪ শতক জমির ওপর বাড়িতে একটি টিনের চালায় ছোট ভাইসহ মা রানী রায় অনেক কষ্টে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুণীল চন্দ্র গত ৮ বছর ধরে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের মামা মনোরঞ্জনের বাড়িতে থাকে। সেখানে স্ত্রী ও ৯ বছরের একটি ছোট ছেলে নিয়ে তার সংসার। তার ছেলেটি তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সুণীলের সম্বল বলতে প্রতিবন্ধী ভাতা ও তার সুরেলা কন্ঠ।

সুনীল চন্দ্র রায় জানান, ৫ বছর বয়সে তার টাইফয়েড জ্বর হয়। তাতে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে তার পরিবার বিভিন্ন সময়ে তাকে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে চিকিৎসার করায়। কিন্তু তার দৃষ্টি শক্তি আর ফিরে আসেনি। দৃষ্টি শক্তি না থাকায় সুনীল সম্পূর্ণরুপে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তার পর তিনি পনের বছর বয়সে জীবন-জীবিকার তাগিদে হাতে তুলে নেন সারিন্দা।

উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও গ্রামগঞ্জে ঘুরে লোকজনের সমাগমে সারিন্দা বাজিয়ে ভাওয়াইয়া, লালনগীতি, পল্লীগীতিসহ বিভিন্ন গান পরিবেশন জীবিকা নির্বাহ করেন। রংপুরের বিভিন্ন জেলায়ও গান পরিবেশন করেন তিনি। সুনীলের সূরেলা কন্ঠের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে শ্রোতারা সাধ্যমতো সুনীলকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন। এতে তার দৈনিক ৩শ থেকে ৪শ টাকা আয় হয়। সেই টাকা দিয়েই কোনরকমে চলে সুণীলের সংসার।

এ ভাবে বিশ বছর ধরে সুখ-দুঃখের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুণীলের সংসার ও সারিন্দা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সুনীলের গাওয়া গান মানুষের মনকে জয় করে নিয়েছে। সুণীলকে একটু সহযোগিতা করলে তিনি বড় গায়ক হতে পারতেন।

উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সুণীলের প্রতিভা বিকাশের জন্য সব রকম সহযোগিতা করা হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *