কুমারখালীর ধলনগর গ্রামের কুখ্যাৎ সন্ত্রাসী শাহিন শাহ পুলিশের অভিযানে আটক

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০৯ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 1979 বার
কুমারখালীর ধলনগর গ্রামের কুখ্যাৎ সন্ত্রাসী শাহিন শাহ পুলিশের অভিযানে আটক

কিশোর গ্যাং দিয়ে তার উথান। গুটি কয়েক টোকাই আর বিপথগামী যুবকদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন এই গ্যাং। এই গ্যাং এমন কোন অপরাধ নাই করেনি। মানুষ হত্যা থেকে শুরু করে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, হুমকি-ধামকি, অর্থের বিনিময়ে গ্রাম্য সালিশের বিচারকে প্রভাবিত করাসহ শতাধিক অভিযোগ আছে এই কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক শাহীন শাহার বিরুদ্ধে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, পুলিশের হাতে আটক হয়েছে এই কুখ্যাৎ সন্ত্রাসী। কুমারখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, শাহিন শাহ’র বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ তাকে আটক করে গতকাল শনিবার জেলহাজতে প্রেরন করেছে। তার আটকের সংবাদে ধলনগরসহ আশেপাশের গ্রামের তার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শাহিন শাহ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়ন এর ধলনগর গ্রামের মিলন মিয়ার ছেলে। ইতিমধ্যে শতাধিক অভিযোগের ফিরিস্তি এই প্রতিবেদক এর হাতে এসে পৌঁছেছে। সেসব ফিরিস্তি বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, হরিনারায়নপুর বাজারের ব্যবসায়ী নুরানকে হত্যা, গরু ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারপিট করে টাকা ছিনতাই, জমি সংক্রান্ত ঝামেলায় এক বৃদ্ধকে মারপিট করে পঙ্গুত্ব করা, প্রবাসী এবং চাকরির সুবাদে বাইরে থাকায় এই গ্রামের লোকদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে চাঁদা আদায়, চা-বিক্রেতা চাঁদা না দেওয়ায় তাকে সাইকেলের চেইন দিয়ে নির্মম নির্যাতন, ভ্যান চালককে অমানবিক অত্যাচার করে নির্যাতন, এলাকায় আসা তিন মোটরসাইকেল আরোহী কে আটকে রেখে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং তাদের মারধর করা, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া, খারাপ মেয়েদের দিয়ে বিভিন্ন লোকজনকে ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়, কৃষকের গোয়াল থেকে জোরপূর্বক গরু খুলে নিয়ে বিক্রি করা এবং প্রতিবাদ করায় মারধর, ধলনগরের পাশের গ্রাম পদ্ম নগরের রঞ্জুর লিটন নামে দুই যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম (যারা বর্তমানে পঙ্গুত্ববরণ করেছে মামলা চলমান), আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের কাছে থেকে নিয়মিত মোটা অংকের অর্থ আদায় এবং না দিলে হুমকি-ধামকি সহ শতাধিক অভিযোগ রয়েছে এই শাহিন শাহ গ্যাং এর বিরুদ্ধে। এছাড়াও নিরাপত্তার ভয়ে প্রকাশ না করা শত শত অভিযোগ রয়েছে এই কুখাৎ সন্ত্রাসী শাহিন শাহ এর বিরুদ্ধে।
ধলনগর গ্রামের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই শাহিন শাহের উথান ছাত্রদল ক্যাডার উজ্জল এর হাত ধরে। ছাত্রদলের এই ক্যাডারের সাথে নূরান হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি শাহিন শাহ। যে মামলাটি বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন। এই ঘটনায় নূরানী স্ত্রী সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে কুমারখালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নূরান হরিনারায়নপুর বাজারে ব্যবসা করতেন। এই বাজারের প্রায় সকল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলতেন গ্যাংয়ের মূলহোতা শাহিন শাহ। নুরান এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করেছিলেন। নূরানের সাথে শাহিন শাহ গ্যাংয়ের হাতাহাতিও হয়েছিল। যেদিনকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে সেদিনকে শাহিন শাহ গ্যাং ব্যবসায়ী নূরানকে হুমকি দিয়েছিলেন, এর ফল নুরানকে ভোগ করতে হবে। এর ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর রাতে বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে ব্যবসায়ী নুরানের অন্ডকোষ ও জিব্বা কেঁটে নির্মমভাবে হত্যা করে এই শাহিন শাহ গ্যাং। শাহিন শাহ’র নির্যাতন আর অত্যাচারের শিকার হননি এরকম মানুষ ধলনগর গ্রামে নেই। হুমকি-ধামকি আর নির্যাতন অতিষ্ট ধলনগরসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
অভিযোগ আছে এই শাহিন শাহ’র গ্যাংয়ে ১০ থেকে ১২ জন ক্যাডার আছে যারা নিয়মিত বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানী, কারন ছাড়া মারপিট হুমকী ধামকী দিয়ে যাচ্ছে।
শাহীন শাহ’র আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা হিসেবে কুমারখালী উপজেলা যুবলীগের গুরুত্বপূর্ন পদধারী এক নেতার নাম এসেছে বার বার। শাহিন শাহ আটকের আগে একটি বেসরকারী টেলিভিশনের ক্যামারায় অন্তত ঐ নেতার সাথে তার ঘনিষ্টতার কথা ৭ বার বলেছে। শাহিন শাহ’র ফেসবুকেও ঐ নেতার সাথে বিভিন্ন জায়গার বেশকিছু ছবি আপলোড রয়েছে। এই নেতার সাথে শাহীন শাহ’র ঘনিষ্টতা নিয়ে আগামী পর্বে বিস্তারিত থাকছে।
শাহিন শাহ গ্যাংয়ের অন্যতম ক্যাডার ধলনগর গ্রামের হেকমত মালিতার ছেলে নিজাম মালিথা। এই নিজাম মালিথাকে শাহিন শাহ’র সেকেন্ড ইন কমান্ড বলা হয়। শাহিন শাহ’র সব রকমের অপকর্মের অন্যতম সহযোগি এই নিজাম মালিথা। এর পরেই রয়েছে ধলনগর গ্রামের মৃত মোজা মন্ডলের ছেলে রেজাউল ওরফে ভুলু। এই ভুলু শাহিন শাহ’র প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের পাশাপাশি এলাকায় মোটা অংকের টাকা দিয়ে সুদের ব্যবসা করে। এরপরেই রয়েছে ধলনগর গ্রামের জগলু মোল্লার ছেলে আকাশ। আকাশ এলাকার একজন চিহ্নিত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী। এরপরেই রয়েছে ধলনগর গ্রামের নায়াপ মন্ডলের ছেলে সোহেল। সোহেল অত্র এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বিপুল পরিমান মাদক নিয়ে র‌্যাবের হাতে আটকের পর বেশকিছুদিন জেল খেটে বের হয়েছে। সে ঐ এলাকার সবচেয়ে বড় মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়াও শাহিন শাহ’র অন্যতম সহযোগি হলেন, ধলনগর গ্রামের জুলমত মালিথার ছেলে রবি মালিথা। এছাড়াও প্রভাব বিস্তার করে শাহিন শাহকে যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছেন তারা হলেন ধলনগর গ্রামের কাঞ্চনের ছেলে জাহিদ, মৃত মোহরের ছেলে রাসেল, মৃত শহর মিয়ার ছেলে রুবেল, সহিদুল মিয়ার ছেলে তুষার, কিয়াম উদ্দিন শেখের ছেলে ছমির শেখ, তেজারত বিশ্বাসের সিদ্দিক বিশ্বাস, কলিমদ্দিন শেখের ছেলে আমিরুল ইসলাম(মনজিল)।
শাহিন শাহ’র সহযোগি ও তাকে যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে গ্যাং তৈরীতে সহযোগিতা করেছেন তাদের ব্যাপারে গুরুতর তথ্য উপাত্ত এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে কুমারখালী উপজেলা যুবলীগের এক নেতার নাম এসেছে। শুধু তাই নয় শাহিন শাহ’র উথান ছাত্রদলের মাধ্যমে হলেও পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন দলের বিপথগামী কয়েক নেতার আশ্রয়ে সে তার অপরাধের জাল বিস্তার করেছে।
আগামী পর্বে পড়ুন কতগুলো নিপরাধ মানুষ শাহিন শাহ গ্যাংয়ের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।