কুষ্টিয়ায় গৃহকর্মীর শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৪ মার্চ ২০২০, ১২:২৯ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 30 বার
কুষ্টিয়ায় গৃহকর্মীর শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

বাবা-মা দুজনেই চাকরি করেন। দুই বছরের ছোট শিশুটিকে রেখে যান বাসায় গৃহকর্মী রেখা খাতুনের কাছে। কিন্তু সেই গৃহকর্মী বাবা-মার অনুপস্থিতিতে শিশুটিকে নির্দয়ভাবে মারছেন। আর এই দৃশ্য অফিসে বসে দেখছিলেন অসহায় বাবা ডা: রকিউর রহমান রাকিব। ইতিমধ্যে গৃহকমৃী রেখা খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ডাঃ রকিউরের দায়ের করা মামলায় গৃহকর্মী রেখা খাতুন এখন জেল হাজতে। নির্যাতনের শিকার শিশুটি স্বাভাবিক থাকলেও তার মধ্যে এখনো ভয় কাজ করছে। কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার একটি বহুতল ভবনে বাস করেন ডাঃ রকিউর রহমান ও ডাঃ শারমিন দম্পতি। শিশু সাহাম রহমানের বাবা ডা: রকিউর রহমান জানান, তাদের তিন সন্তানের মধ্যে সাহাম রহমান সবার ছোট। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই পেশায় চিকিৎসা পেশার সাথে যুক্ত থাকায় তাদের দুই বছরের ছোট সন্তানকে দেখাশোনার জন্য গৃহকর্মী রেখা খাতুনকে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতন দিয়ে গত ৮ মাস আগে থেকে বাসায় রাখেন এই দম্পতি। কিছুদিন ধরে শিশু সন্তানের অস্বাভাবিক আচরন দেখে বাবা রকিউর রহমানের সন্দেহ হয়। বাসায় কি ঘটছে সেটা জানতেই তিনি বাসায় সিস ক্যামেরা লাগান। আর এই সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে লোহমর্ষক এই দৃশ্য। নিজের স্মার্টফোনে দেখতে পান গৃহকর্মী রেখা তার সন্তানকে নির্যাতন করছে। এই দৃশ্য দেখেই তিনি ছুটে যান বাসায় উদ্ধার করেন তার শিশু সন্তানকে। এই ঘটনায় গত ১৬ মার্চ ডাঃ রকিউর রহমান বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত গৃহকর্মী রেখা খাতুনকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রেখা এখন জেলে। এই ঘটনায় ভেঙ্গে পড়লেও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে শিশুটির বাবা বলেন, আমরা কর্মজীবি হওয়ায় ওই গৃহকর্মীর কাছেই শিশু সন্তানকে রাখতে বাধ্য হয়। তবে বাসায় গৃহকর্মী রাখার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান তার। শিশু সাহামের বড় বোন রামিশা রহমান বলেন, শিশু সাহাম নয় বাবা মায়ের অনুপস্থিতিতে তার আরো বড় দুই বোনের সাথেও খারাপ আচরন করতো ওই গৃহকর্মী। সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, সমাজের মানুষের নীতি নৈতিকতার অবক্ষয়ের ফলে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। উপযুক্ত শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারলে সমাজ থেকে এই ধরনের ঘটনা নির্মূল হবে বলে মত সমাজ কর্মীদের। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা জানান, বাসায় গৃহকর্মী রাখার ব্যাপারে অবশ্যই তার পারিবারিক খোঁজ খবর নেওয়াটা জরুরী। এই ঘটনার সাথে যুক্ত গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর সাথে সাথেই তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।